www.jhalokathisomoy.com
মুক্তচিন্তার অনলাইন সংবাদপত্র, ঝালকাঠি, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯, ৮ ফাল্গুন, ১৪২৫
শিরোনাম

বিজয় সমাবেশে যা বলেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা

দেশ | January 19, 2019 - 7:05 pm

৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিতে জনগণ অপেক্ষায় ছিল বলে মন্তব্য করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

তারা বলেছেন, এবার সংসদ হবে জামায়াতমুক্ত, খুনিমুক্ত। যারা খুনিদের সঙ্গে আঁতাত করেছিল, জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য করেছিল, মানুষ তাদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।

শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিজয় সমাবেশে দলটির শীর্ষ নেতারা এসব কথা বলেন। দলটির নেতারা বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে দেশের জনগণ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য শেখ হাসিনার নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছেন। জামায়াত ও খুনিদের দোসরদের থেকে জাতীয় সংসদকে রক্ষা করার জন্য এই দিনটির অপেক্ষা করেছিল দেশের সর্বস্তরের জনগণ।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু তার বক্তব্যে বলেন, ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তানের নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাংলার মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক মুক্তির যে রায় নির্বাচনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন করার সুযোগ না দিয়ে সেই বাংলার নিরস্ত্র মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ত্রিশ লাখ মানুষ আত্মাহুতি দিয়ে নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আরেক ডিসেম্বর, উনি শ একাত্তরে বিজয় অর্জন হয়েছিল স্বাধীন বাংলার। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ অর্থনৈতিক মুক্তিকে শেখ হাসিনা সম্পন্ন করতে যাচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, ১৯৭০ সালে নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শুধু বিজয়ীই হন নাই, নির্বাচনের দিন তিনি (বঙ্গবন্ধু) সাংবাদিকদের বলেছিলেন ‘আমি অবাক হব, যদি আমি দুটি আসনে হেরে যাই’। সত্যিই ওই দিন শুধু দুটি আসনেই তিনি হেরেছিলেন।  ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আমার আবার মনে হয়েছে বঙ্গবন্ধু আবারও আমাদের মাঝে ফিরে এসেছেন।  তিনি বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বাংলার মানুষ উন্নয়নের পক্ষে ভোট দিয়েছে। গ্রামের মানুষ, মা-বোন ঐক্যবদ্ধ হয়ে সারিবদ্ধ হয়ে ভোট দিয়েছে। জিজ্ঞেস করেছিলাম মা কেন, আপনি ভোট দিতে এসেছেন? বলেছিলেন ‘শেখ হাসিনা আমাদের বয়স্ক ভাতাও দিচ্ছে’। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের অদম্য আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে মানুষ শেখ হাসিনাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। বছরের প্রথম দিন যে গ্রামে গ্রামে শিশুদের মাঝে নতুন বই উপহার দেওয়া হয়, এ বিজয় তার প্রতিফলন। কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবার বিনিময়ে এ বিজয়।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, যারা নির্বাচনে হেরে গেছে, যারা লড়াইয়ের মাঠে আজকে হেরে গেছে তারা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারে না। বাংলার জনগণ মনে করে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ভালোবাসায় তারা সিক্ত হয়েছেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, যারা ৩০ ডিসেম্বরে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেন, তারা কারা? তারা স্বাধীনতা বিরোধী, যুদ্ধাপরাধীর পক্ষ।  ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনাকারী, হাওয়া ভবন সৃষ্টি করে দুর্নীতি ও লুটপাটকারী এবং দেশের টাকা বিদেশে পাচারকারী বিএনপি নেতা তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি জানাচ্ছি। যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের বড় বিজয় হলো শেখ হাসিনার সততার বিজয়। এ বিজয় শেখ হাসিনার উন্নয়নের বিজয়। ৩০ ডিসেম্বরের বিজয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য ষড়যন্ত্র হচ্ছে, সেই ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দিতে হবে।  আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ এবং উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলামের সঞ্চলনায় আরও বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, কার্যনির্বাহী সদস্য মির্জা আজম, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন।

(দৈনিক দেশ রুপান্তরের খবর/সুতীর্থ/ঝাস)

মুক্তচিন্তার যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ সাইটের তথ্য বা ছবি ব্যবহার করতে পারবেন, তবে সে ক্ষেত্রে তথ্য সূত্র উল্লেখ করতে হবে-সম্পাদক ঝালকাঠি সময়।