www.jhalokathisomoy.com
মুক্তচিন্তার অনলাইন সংবাদপত্র, ঝালকাঠি, ১৯ জানুয়ারী, ২০১৯, ৬ মাঘ, ১৪২৫
শিরোনাম

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ

দেশ | January 10, 2019 - 9:27 am

আজ ঐতিহাসিক ১০ জানুয়ারি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। ১৯৭২ সালের এই দিনে পাকিস্তানে ৯ মাসের কারাবাস শেষে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন স্বাধীনতার মহান স্থপতি ও বাঙালির অবিসংবাদিত এই নেতা।

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি এ মহান নেতার অম্লান স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তারা।

বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ঘটনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হলেও প্রকৃতপক্ষে ১৯৭২-এ বঙ্গবন্ধুর দেশে ফিরে আসার মধ্য দিয়েই এ বিজয় পূর্ণতা পায়। জাতির পিতা তার এ প্রত্যাবর্তনকে দেখেছিলেন ‘অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রা’ হিসেবে।

১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন চলার সময় ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী তাদের পূর্বপরিকল্পিত বাঙালি নিধনযজ্ঞের নীলনকশা ‘অপারেশন সার্চলাইট’ বাস্তবায়নে গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করে। এ প্রেক্ষাপটে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে সর্বস্তরের জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। এর পরপরই পাকিস্তানিরা বঙ্গবন্ধুকে তার ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।

অবরুদ্ধ বাংলাদেশে যখন স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ যুদ্ধ চলছে, তখন পশ্চিম পাকিস্তানে প্রহসনের বিচারে বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়। কারাগারের যে সেলে তাকে রাখা হয়েছিল, তার পাশে কবর পর্যন্ত খোঁড়া হয়।

এদিকে বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি করে গঠিত হয় প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার। তার অবর্তমানে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। ‘মুজিবনগর সরকার’ নামে খ্যাত এ সরকারের নেতৃত্বে মরণপণ যুদ্ধে ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর জাতি বিজয়ের লাল সূর্য ছিনিয়ে আনে।

তবে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম থেকেই কারাবন্দি বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে বিশ্বব্যাপী প্রবল জনমত গড়ে ওঠে। স্বাধীনতার পর নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিশ্ববাসীর কাছে অবিসংবাদিত এই নেতার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয়। বিশ্বনেতারাও তার মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হন। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে অবশেষে পাকিস্তান সরকার বাধ্য হয়ে বঙ্গবন্ধুকে সসম্মানে মুক্তি দেয়। ১৯৭২-এর ১০ জানুয়ারি বিজয়ীর বেশে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে প্রিয় স্বদেশে ফিরে আসেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এই বাঙালি।

দিনটিকে ঘিরে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন আজ বৃহস্পতিবার নানা কর্মসূচি পালন করবে। আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে রয়েছে- আজ সকাল সাড়ে ৬টায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবনসহ সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন এবং বিকেল ৩টায় রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তন ও বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেবেন। সারাদেশে দল ও সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো অনুরূপ কর্মসূচি পালন করবে।

এ ছাড়া বিভিন্ন সংগঠন জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, আলোচনা সভা, স্বেচ্ছায় রক্তদান, বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, দোয়া-মিলাদ মাহফিল ইত্যাদি কর্মসূচি পালন করবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল এক বিবৃতিতে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে আয়োজিত আলোচনা সভাসহ সব কর্মসূচি যথাযথভাবে পালনের জন্য দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীসহ সব সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

(দৈনিক সমকালের খবর/ডেস্ক/ঝাস)

মুক্তচিন্তার যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ সাইটের তথ্য বা ছবি ব্যবহার করতে পারবেন, তবে সে ক্ষেত্রে তথ্য সূত্র উল্লেখ করতে হবে-সম্পাদক ঝালকাঠি সময়।