www.jhalokathisomoy.com
মুক্তচিন্তার অনলাইন সংবাদপত্র, ঝালকাঠি, ১৯ জানুয়ারী, ২০১৯, ৬ মাঘ, ১৪২৫
শিরোনাম

বরফ গলে মহাপ্লাবনের আশঙ্কা

বিবিধ | January 3, 2019 - 9:52 am

পৃথিবীর পঞ্চম বৃহত্তম মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকা। দক্ষিণ মেরুতে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের গড়ে ৯৮ ভাগই প্রায় দুই কিলোমিটার পুরু বরফাবৃত। এক কোটি ৪০ হাজার বর্গ কিলোমিটার জুড়ে থাকা এই বরফাবৃত অঞ্চলকে পৃথিবীর শুষ্কতম মরুভূমি হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়। মাঝে মধ্যেই বিজ্ঞানীরা অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলে যাওয়া সম্পর্কে সাবধান করছেন পৃথিবীর মানুষকে। বরফ গললে কী হতে পারে সে সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির ক্লাইমেট সায়েন্স বিভাগের গবেষকরা জানিয়েছেন, গত দেড় থেকে দুই দশক ধরে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে গলেছে এন্টার্কটিকার বরফ। সেখানে গত ২৫ বছরে গলেছে ৩ লক্ষ কোটি টন বরফ! এই গতিতে এন্টার্কটিকার বরফ গলতে থাকলে আগামী ৩০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এন্টার্কটিকার পশ্চিমপ্রান্তের বরফ খণ্ডগুলোর উল্লেখযোগ্য অংশ গলে যাবে। মূলত উষ্ণায়নের কারণেই গলছে এন্টার্কটিকার বরফ। পৃথিবীর উষ্ণায়নের হার এইভাবে চলতে থাকলে আগামী ৪৭৫ বছরের মধ্যে পৃথিবীতে দেখা দিতে পারে মহাপ্লাবন। পৃথিবীর অন্তত ৭০ শতাংশ তলিয়ে যাবে পানির নিচে!

ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির ক্লাইমেট সায়েন্স বিভাগের সিনিয়র প্রফেসর আন্দ্রেজ কার্লসনের নেতৃত্বে গবেষণা দলে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই অধ্যাপক সিদ্ধার্থ রঙ্গনাথন এবং দেবযানী দত্ত ভট্টাচার্য। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘সায়েন্স’-এ। গবেষণাপত্রটি গত ডিসেম্বরেই উপস্থাপন করা হয়েছে ওয়াশিংটনে আমেরিকান জিওফিজিক্যাল ইউনিয়নের (এজিইউ) বৈঠকে।

গবেষণা দলের দুই সদস্য সিদ্ধার্থ রঙ্গনাথন ও দেবযানী দত্ত ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, এন্টার্কটিকার বরফের বিশাল বিশাল খণ্ডগুলো ভয়াবহ ভবিষ্যতের দিকেই এগিয়ে চলেছে। এর আভাস মিলতে শুরু করেছে দেড় থেকে দুই দশক আগেই। এন্টার্কটিকার বরফের পুরু ও বিশাল বিশাল বরফ খণ্ডগুলো গলতে তখন যতটা সময় নিয়েছিল, এবার তার চেয়ে অনেক কম সময় নেবে। অন্তত ৪৫/৪৭ শতাংশ কম সময় লাগবে।

তাদের মতে, এক লক্ষ ২৫ হাজার বছর আগে সূর্যের বায়ুমণ্ডল থেকে বেরিয়ে আসা ভয়ঙ্কর সৌরঝড়, সৌরবায়ু আর করোনাল মাস ইজেকশনের কারণে এন্টার্কটিকার বরফখণ্ডগুলো বাজেভাবে গলে গিয়েছিল। সূর্যের বায়ুমণ্ডল থেকে বেরিয়ে আসা ঐ ভয়ঙ্কর সৌরঝড়, সৌরবায়ু আর করোনাল মাস ইজেকশন পৃথিবীকে এতটাই তাতিয়ে তুলেছিল যে, অত দ্রুত হারে গলে গিয়েছিল অ্যান্টার্কটিকার বরফের অত্যন্ত পুরু ও বিশাল খণ্ডগুলো।

গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতি শতাব্দীতে সাগরের পানির উচ্চতা ৮ থেকে ১০ ফুট করে বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আরও ৮০ ফুট উঠতে আরও ৮ শতাব্দী লাগার কথা। যার অর্থ ২৮০০ সালের মধ্যেই সেই মহাপ্লাবন হবে পৃথিবীতে। তবে বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, হিমশৈলে’র চূড়া দেখা যাবে আগামী ৫০০ বছরের মধ্যেই।

ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি)-র গান্ধীনগর শাখার আর্থ অ্যান্ড অ্যাটমস্ফেরিক সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক বিক্রান্ত জৈন বলেছেন, গবেষণাপত্রটি খুবই উদ্বেগজনক, একই সাথে তাত্পর্যপূর্ণ। উষ্ণায়ন আমাদের সভ্যতার বিপদকে কতটা বাড়িয়ে তুলেছে তা গত দুই দশকের চিত্রে তা স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।

(দৈনিক ইত্তেফাকের খবর/বাস/ঝাস)

মুক্তচিন্তার যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ সাইটের তথ্য বা ছবি ব্যবহার করতে পারবেন, তবে সে ক্ষেত্রে তথ্য সূত্র উল্লেখ করতে হবে-সম্পাদক ঝালকাঠি সময়।