www.jhalokathisomoy.com
মুক্তচিন্তার অনলাইন সংবাদপত্র, ঝালকাঠি, ১৯ জানুয়ারী, ২০১৯, ৬ মাঘ, ১৪২৫
শিরোনাম

ডিজিটাল বাংলাদেশ, তরুণদের স্বপ্নের মাতৃভূমি

বাপ্পি সেন গুপ্ত | December 14, 2018 - 4:52 pm

ডিজিটাল বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে গত বুধবার (১২ ডিসেম্বর) শুরু হয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস-২০১৮।কাজ জেনে নিজেকে গড়ে তোলার এটাই এখন সঠিক সময়  হিসেবে ধরে নিয়েছেন বর্তমান তরুণ প্রজন্ম। বিষয়ভিত্তিক কোন একটা কাজের অভিজ্ঞতা নিয়েই শুরু হতে পারে কর্মযজ্ঞ ও আয়ের উৎস। ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন তরুণদের জন্য স্বপ্নের মাতৃভূমি। বাংলাদেশে  বেশিরভাগ তরুণ উদ্যোক্তা এখন প্রযুক্তিতে  নিজেকে তৈরী করছেন।

বাংলাদেশ ডিজিটালাইজেশনের বিশেষ অবদান রেখেছেন  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের প্রায় তরুণরা যা কোনদিন কল্পনাও করেনি একসময় যা ছিল শুধুমাত্র স্বপ্ন তা আজ বাস্তবে রূপ পাচ্ছে শুধুমাত্র ডিজিটাল বাংলাদেশের ফলে। অল্প বয়সেই খুব কাছাকাছি থেকে আমাদের মত তরুণরা অংশগ্রহণ করতে পারছি ডিজিটাল বাংলাদেশের বিভিন্ন ইনোভেটিভ কর্মসূচিতে, যেখানে মূল নেতার সাথে আমাদের দূরত্বটা কম থাকে যার ফলে খুব সহজে নতুন নতুন ইনোভেশনও তৈরী করতে পারছি আমরা। ফলে দেশ ডিজিটালে আরও গতিশীল হচ্ছে, আর এর একমাত্র ধারক ও বাহক বর্তমান সরকার।

এখন দায়িত্ব আমাদের সবার, সমালোচনা নয় এখন তো কর্মের সময়। কারণ সবকিছু এখন আমাদের হাতের নাগালে। একটা মাত্র ছোট উদাহরণ দিচ্ছি, একটা সময় ছিল আমরা ১ মেগাবাইট ডাউনলোড করতাম ৫ মিনিট বসে এখন ৫ মিনিটে ১০০০ মেগাবাইটও সম্ভব।

তাই প্রতিটি অভিভাবকের উচিৎ  তার সন্তানকে ভাল খারাপ দিকগুলো বুঝানো । দ্বায় আর দায়িত্বের মান বুঝাতে হবে। স্কুল জীবনে মোবাইল শুধু একটি নয়, একটি কম্পিউটারও কিনে দেয়া উচিৎ যার ফলে সেই সন্তান কম্পিউটারে ব্যস্ত থেকে নতুন কিছু শেখার  চেষ্টা করে এবং এই চেষ্টায়  খারাপ পথে  যেন মনোনিবেশ না করে সেদিকেও খেয়াল রাখতে  হবে ।  একসময় তার মধ্যে নতুন নতুন ধারণা আসবে মনোনিবেশ করবে প্রতিযোগিতার লড়াইয়ে, হয়ত একসময় সে হয়ে উঠবে কোন একটা ইনোভেশনের প্রতিষ্ঠাতা।

ডিজিটাল বাংলাদেশ মানে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে এদেশের শিক্ষা, চিকিৎসা, অর্থনীতি,কৃষি ও ব্যবসা ক্ষেত্রে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা। ডিজিটাল বাংলাদেশ মানে তথ্য প্রযুক্তির সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করে সব মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সমান সুযোগ তৈরী করা। ডিজিটাল বাংলাদেশ মানে হল তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে নাগরিক সুযোগ সুবিধা জনসাধারণের কাছে সহজ সাধ্য করে জনজীবনকে আরামদায়ক করে তোলা।

তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের জীবন ধারাকে উন্নত করাই হচ্ছে এদেশের তথ্য প্রযুক্তিবিদ ও নীতি নির্ধারকদের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সরকার ও জনসাধারণকে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে। আর সে সব চ্যালেঞ্জ এর জন্য আমাদের যে সকল প্রস্তুতি দরকার, একটা দেশের সরকার তা একা করতে পারে না।  আমরা যারা সমাজের নানা পেশায় জড়িত তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সচেতনতার ধারা সৃষ্টি করে সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

ঘরে বসে থাকা শিক্ষিত নারীদের ব্যপকহারে তথ্য প্রযুক্তি শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। কারণ তথ্য প্রযুক্তি জানা মায়েরাই তাদের সন্তানদেরকে আগামীদিনের দিক নির্দেশনা দিতে পারবেন। বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য খন্ডকালীন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরী করতে হবে যা তাকে ভবিষ্যতের কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডে কাজ করতে সাহায্য করবে। যার ফলে রেমিটেন্স আয়ের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে।

তবে অনলাইনে কাজ করে রাতারাতি কোটিপতি হয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই, থাকতে হবে ধৈর্য ও অভিজ্ঞতা। প্রতারণামূলক কাজের ক্ষেত্র থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে হবে। শেকড় থেকে তৈরী করতে হবে নিজেকে দক্ষতা ।

লেখক: বাপ্পি সেন গুপ্ত, নেক্সটজেন টেকনোলজি লিমিটেডের ইনোভেটর ও উদ্যোক্তা।

মুক্তচিন্তার যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ সাইটের তথ্য বা ছবি ব্যবহার করতে পারবেন, তবে সে ক্ষেত্রে তথ্য সূত্র উল্লেখ করতে হবে-সম্পাদক ঝালকাঠি সময়।