www.jhalokathisomoy.com
মুক্তচিন্তার অনলাইন সংবাদপত্র, ঝালকাঠি, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫
শিরোনাম

নাগরিক সাংবাদিকতা ও দায়বদ্ধতা

পলাশ রায় | August 11, 2018 - 3:50 pm

নাগরিক সাংবাদিকতার সূচনা পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে প্রযুক্তি সভ্যতার অগ্রযাত্রায় বিশেষ করে ইন্টারনেটের কল্যাণে। এখন বাংলাদেশেও এ সাংবাদিকতা ছড়িয়ে পড়েছে শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে। একে জন-সাংবাদিকতাও বলা হয়। সমাজের অসঙ্গতি কিংবা সমস্যা সমাধানে পৃথিবীজুড়ে বিশেষ ভূমিকা রাখছে এ সাংবাদিকতা। তৈরি করছে জনমত। গুগলের যাত্রা শুরু ১৯৯৮ সালে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক ২০০৪ সালে, টুইটার ২০০৬ সালে এবং অ্যাপলে-আই ফোন ২০০৭ সালে। ফেসবুক, টুইটার, ভাইবারসহ এখন নানা মাধ্যম এ সাংবাদিকতার প্লাটফর্ম। বর্তমানে নাগরিকজীবনে স্মার্টফোন নাগরিক সাংবাদিকতাকে করেছে গতিশীল, সেইসঙ্গে এনেছে বিপর্যয়ও।

সাংবাদিকতার কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই অনলাইনভিত্তিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে কেউ তার চারপাশের ঘটে যাওয়া ঘটনা, বিষয় বা নিজস্ব মতামত কিংবা সঠিক তথ্য-উপাত্ত লেখা, তথ্যচিত্র, খুদেবার্তা, অডিও, ভিডিও বা অন্য কোনোভাবে জনস্বার্থে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার বা প্রকাশ করে থাকেন। তবে জনকল্যাণেই তার একমাত্র উদ্দেশ্য হতে হবে। পাঠকের মতামতকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে নাগরিক সাংবাদিকতার প্লাটফর্ম তৈরি করে অনেক গণমাধ্যম। দৈনিক পত্রিকাগুলোতেও রয়েছে চিঠিপত্র ও মতামত কলাম। তবে ফেসবুকই এখন নাগরিক সাংবাদিকতার প্রধান মাধ্যম।

স্বতঃস্ফূর্ত ও স্বপ্রণোদিত হয়ে গণমানুষের খবরাখবর বা তথ্য সংগ্রহ, পরিবেশন, বিশ্লেষণ এবং প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেওয়াই হচ্ছে নাগরিক সাংবাদিকতা। তবে এ জাতীয় সাংবাদিকতার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি, পরিচয় নেই। এ সাংবাদিকতা চর্চায় যে বিষয়গুলো মেনে চলতে হয়—মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন তথ্য-উপাত্তের প্রচার বা প্রকাশ থেকে বিরত থাকা। জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণি নির্বিশেষে প্রত্যেকের নিজস্ব বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন। ইচ্ছাকৃত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যক্তির মর্যাদাহানিকর কোনো বিষয় প্রচারে বিরত থাকা। নিজের বিবেকলব্ধ দায়িত্বশীল আচরণ করা এবং সর্বোপরি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে স্বাধীন মত প্রকাশ করা।

নাগরিক সাংবাদিকতার মাধ্যম ফেসবুক হয়ে উঠেছে অনেকটা বিপজ্জনক। মোবাইল ফোনে ইন্টারনেটের সহজলভ্যতায় মিথ্যা খবর ছড়িয়ে পড়ছে। বিভ্রান্ত হচ্ছে নাগরিকসমাজ। অনেক সময় মিথ্যা খবর ঠেকাতে কিংবা তার প্রভাবমুক্ত করতে হিমসিম খেতে হয় রাষ্ট্রকেও। সম্প্রতি ছাত্রআন্দোলনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের প্রচারণায় তার প্রমাণ সবাই দেখতে পেয়েছেন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত না হয়েও অনেকে আবার যাচাই-বাছাই না করেই অনেক খবর ছড়িয়ে দেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ফলে এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ব্যক্তি, সমাজ বা রাষ্ট্র মুক্তি পায় না। আবার অনেক সময় সত্য ঘটনা বা ছবি কিংবা ভিডিও জনমনে ভয় বা বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কারণ হয়ে ওঠে। যেমন ধরা যাক—সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত হলেন। আর সেই দুর্ঘটনাকবলিত মানুষের রক্তাক্ত ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হলো। এই ছবির বীভত্সতা শিশু, বৃদ্ধ কিংবা হূদয়বান মানুষের মনে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। কখনো সেই ছবি হতে পারে মৃত্যুরও কারণ। এক্ষেত্রে প্রত্যক্ষদর্শী নাগরিক সাংবাদিকগণ ছবি ছাড়াই কিংবা কেবল দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন বা গণমানুষের ভিড়ের ছবি দিয়েই ঘটনাটি তুলে ধরতে পারেন। আর জনমত তৈরিতে কিংবা কোনো অসঙ্গতির বিরুদ্ধে বা প্রতিকার পেতে নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারেন মার্জিত ভাষায়। আসলে এ ধরনের সাংবাদিকতায় বিশেষজ্ঞ, জড়িত ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান আবার অনেক সময় সরেজমিন পর্যবেক্ষণ ছাড়াই ব্যক্তির অভিমত বা তথ্য ছবি দিয়ে খবর তুলে ধরা হয়। তাই উপলব্ধি করতে হবে—প্রথাগত সাংবাদিকতার চেয়েও নাগরিক সাংবাদিকতায় ব্যক্তির দায়বদ্ধতা অনেক বেশি। কারণ এখানে একজন নাগরিক সাংবাদিক নিজেই বিশেষজ্ঞ, নিজেই প্রতিষ্ঠান।

লেখক: সম্পাদক, ঝালকাঠি সময়।

মুক্তচিন্তার যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ সাইটের তথ্য বা ছবি ব্যবহার করতে পারবেন, তবে সে ক্ষেত্রে তথ্য সূত্র উল্লেখ করতে হবে-সম্পাদক ঝালকাঠি সময়।